• ||
  • Tuesday, November 30th, 2021
  • ||

গুনাহ থেকে বাঁচতে মনের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ

গুনাহ থেকে বাঁচতে মনের ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণ
  • জীবনে চলার পথে জেনে না জেনে আমরা অনেক সময় পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ি। ফলে আমাদের আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়। অথচ এই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সকলের কর্তব্য। কিন্তু কীভাবে বাঁচব! গুনাহের কাজগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব! 
  • গুনাহ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হচ্ছে ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করা। যে তার ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তার সফলতা নিশ্চিত। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মনের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা নবীজিকে (সা.) লক্ষ করে বলেছেন, ‘যার হৃদয় আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুসরণ করবেন না।’ (সুরা কাহফ : ২৮)
  • অনেক সময় এমন হয়, রেডিও-টিভি বা মোবাইলে যখন ইসলামিক প্রোগ্রাম হয়, কোরআনের তাফসির বা হাদিসের আলোচনা হয়, অথবা কোনো আমলের দাওয়াত দেওয়া হয়, অধিকাংশ মানুষই তখন অমনোযোগী থাকে, খোশগল্পে মশগুল থাকে। পক্ষান্তরে যখন নাটক আসে বা চিত্তরঞ্জক বিষয় পরিবেশন করা হয় তখন মনোযোগ বেড়ে যায়, গল্পগুজব থেমে যায়। এটা তো কোনো ঈমানদারের অবস্থা হতে পারে না! ঈমানদার হবে আত্মনিয়ন্ত্রিত। পথেঘাটে চলতে গেলে যখন গুনাহ ও পাপের কোনো বিষয় চোখে পড়বে, সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং এসব আয়াত স্মরণ করা। যখন কোনো নষ্ট গায়কের গানের আওয়াজ ভেসে আসবে, তখন প্রিয় রাসুলের (সা.) হাদিস নিয়ে চিন্তা করা। প্রবৃত্তির বিরোধিতা করতে পারলেই মানুষ হয়ে যাবে পরিপূর্ণ ঈমানদার। তখন সে আল্লাহ তায়ালার হুকুমের সামনে নিজেকে অবনত করতে পারবে আর সে হয়ে যাবে জান্নাতের অধিবাসী। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে এবং প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।’ (সুরা নাজিয়াত : ৪০-৪১)
  •  
  • মানুষের ইচ্ছা বা বাসনা কল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তার কোনো শাস্তি হবে না যতক্ষণ তা আমলে পরিণত না হবে। এ জন্যই বারবার বলা হয়েছে, মনের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কোরো না। অনুসরণ বলতে শুধু চিন্তা করাকে বোঝায় না। অনুসরণ হলো বাস্তবে রূপদান করা। সুতরাং যখন কাজে পরিণত হবে তখন তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বনি আদমের ওপর তার জিনার অংশ লিখে রাখা হয়েছে, অবশ্যই সে তা প্রাপ্ত হবে। চোখের জিনা হলো নজর করা, কানের জিনা হলো শ্রবণ করা, জিহ্বার জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো গমন করা, অন্তর আকৃষ্ট হয় ও কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবায়ন করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।’ (মুসলিম : ২৬৫৭)। সুতরাং গুনাহ ও গুনাহের শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে নিজের মনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করুন। আমিন।