• ||
  • Wednesday, November 30th, 2022
  • ||

আত্মনিয়ন্ত্রণে যে উপকার

আত্মনিয়ন্ত্রণে যে উপকার
  • কেউ যদি চায় তিনি পরিপূর্ণতায় পৌঁছবেন, তাহলে তাকে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসংযম হয়ে সংশোধন হতে হবে। অর্থাৎ আত্মার সংশোধন করার পর তিনি সফলতা লাভ করবেন। ইসলামের বিধান পালন করার মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসংশোধন করা সর্বোত্তম। একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি সে কোন পথে চলবে। তার কোন কাজগুলো প্রথমে করা প্রয়োজন এবং এরপর কোন কাজগুলো সম্পূর্ণ করা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই কাজ সম্পূর্ণ করার পদ্ধতি উপলব্ধি করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বর্ণিত বিধান সামনে থাকা সত্ত্বেও মান্য করা সহজ নয়। আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েকটি মাধ্যম পালন করা যায়-
  •  
  • বাহ্যিক অবস্থার উন্নয়ন
  • বাহ্যিক দিককে সুন্দরভাবে পরিচর্যা করে সাজিয়ে তুলতে হবে। কিন্তু এই সুন্দর পরিচর্যা হতে হবে ইসলামে বর্ণিত ওয়াজিব কাজগুলো পালনের মাধ্যমে এবং হারাম কাজগুলো বর্জনের মাধ্যমে। অর্থাৎ একজন মুমিন ব্যক্তি প্রথম ধাপে যে কাজগুলো করবে সেগুলো অবশ্যই ইসলামে ও শরিয়তে বর্ণিত হতে হবে অতঃপর হারাম কাজগুলোকে বর্জন করে আল্লাহর আদেশ পালন করা। এই কাজের ফলে অন্তরের ভেতর নূর তৈরি হবে যা পরবর্তী সময়ে দুনিয়ায় যেকোনো হারাম কাজ থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়।
  •  
  • অন্তরের অবস্থার উন্নয়ন
  • আত্মাকে পাক পবিত্র করা অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি পরিবর্তন করতে হবে। কলুষতাকে দূর করতে হবে এবং আত্মার ভেতরের অপবিত্রতাকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করতে হবে। আত্মার বিষ যেমন- গর্ববোধ করা, কৃপণতা, লোক দেখানো কাজকর্ম, হিংসা, গিবত, জিনা ইত্যাদি অর্থাৎ যে কাজগুলো আধ্যাত্মিক দিক থেকে উদ্ভব হয় এসব কাজকে বর্জন করা। আধ্যাত্মিক সমস্যাগুলো চাইলেই হঠাৎ করে পরিবর্তন করা যাবে না; এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলন। আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল করা প্রতিটি বিষয়ের খোঁজ ক রতে হবে এবং তাৎক্ষণিক সেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেত হবে। এবং আপনাকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে।
  •  
  • আল্লাহর ইচ্ছার সামনে সমর্পণ
  • আধ্যাত্মিক অর্জনকারী একজন ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার দোষ-গুণে নিজেকে গুণান্বিত করবেন। তাদের অপবিত্র দূর করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের অন্তরকে সুন্দর গুণাবলি দিয়ে ভরিয়ে দেবে। শুধু নিয়মিত সালাত, রোজা ও জিকির আজকার করলেই অন্তরের পবিত্রতা দূর করা যাবে না। অনেকে আছে যারা লোক দেখানো কাজ করে সমাজে ঘুরেফিরে বেড়ায়। অবশ্যই আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনকারী ব্যক্তিকে লোক দেখানে কোনো ইবাদাতে শামিল করা যাবে না। অতঃপর ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর রঙে রঙ্গিত হতে হবে। তখনই মানুষের মধ্যে ধর্মীয় নৈতিকতা দেখা দেবে। আর নৈতিকতার ফলে তিনি সমাজে সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠবেন।
  •  
  • পার্থিব উপকার
  • একজন মুসলিম অবশ্যই নিজেকে ভালো কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে আত্মনিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা প্রায়ই সামান্য কথা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে রাগ করে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়ে যাই। অথচ সামান্য রাগকে উপেক্ষা করে যদি নিজেদের সংযত করে রাখতে পারি তাহলে আমাদের অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য নেয়ামত। আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলে দুনিয়ার জীবনে যে প্রাপ্তিগুলো পাওয়া যায়। যেমন- ১. মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেয়। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে চ্যালেঞ্জ সহজেই উত্তীর্ণ হওয়া যায়। ২. জীবনের ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। আত্মনিয়ন্ত্রণের ফলে সহজেই উপলব্ধি করা যায়, জীবনের সফলতা কোথায়। ৩. যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার ক্ষমতা। একজন আত্মনিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তির মন-মেজাজ সর্বদা ভালো থাকে। ৪. চিন্তার বৃহত্তর স্বচ্ছতা রাখতে সহায়তা করে। ৫. পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটায়। সামান্য কথা নিয়ে ঝগড়া, দরকষাকষি, হানাহানি, মারামারি, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায় ফলে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরিবর্তে সম্পর্ক আরও মধুর হয়। ৬. মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ৭. অতিরিক্ত চাপের মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে নিজের কাজ বিঘ্নিত হয় না। সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করা যায়। মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হতে হয় না। ৮. আত্মসম্মান বজায় রেখে  চলতে সাহায্য করে। এমন কোনো কাজে নিজেকে জড়িত করবে না, যে কাজে আত্মসম্মান লঙ্ঘন হয়। একজন ব্যক্তির সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দিন। আমিন।