• ||
  • Sunday, January 23rd, 2022
  • ||

বিপদে ভেঙে পড়া নয়

বিপদে ভেঙে পড়া নয়
  • মানুষের জীবনে সফলতা ও ব্যর্থটা দুটোই আসতে পারে। মানুষকে নানাভাবে আল্লাহ পরীক্ষা করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব সামান্য ভয় ও ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফসলের ক্ষতি দিয়ে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। কারও ওপর কোনো মসিবত এলে সে যেন বলে, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’। নিশ্চয় আমরা আল্লাহর আর আমরা অবশ্যই তাঁর কাছে ফিরে যাব। (সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬)
  •  
  • জীবনে চলার পথে বিপদ আসবেই। বিপদের সময় কী করতে হবে সে নির্দেশনাও দেওয়া আছে আয়াতে। কিন্তু বিপদ যখন কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা কেটে যাওয়ার মতো কোনো স্বাভাবিক সম্ভাবনা মানুষের সামনে না থাকে, তখন মানুষের ওপর আঘাত হানে হতাশা। হতাশা মানুষকে আল্লাহর রহমতের কথা ভুলিয়ে দিতে চায়। 
  •  
  • আল্লাহর কুদরতের কথা ভুলিয়ে দিতে চায়। আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ এবং দয়াকে আড়াল করে দিতে চায়। অথচ কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, মুমিনরা হবে হতাশামুক্ত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) যখন বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একদল ফেরেশতা এসে তাকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ শোনালেন। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে হজরত ইব্রাহিম (আ.) জিজ্ঞেস করলেন- ‘আমাকে তো বার্ধক্য পেয়ে বসেছে, এরপরও তোমরা আমাকে এ সুসংবাদ দিচ্ছ? কিসের ভিত্তিতে তোমরা এ সুসংবাদ দিচ্ছ? ফেরেশতারা বললেন, আমরা সত্য কথাই বলছি। বার্ধক্য আপনাকে স্পর্শ করেছে; তবে এ বৃদ্ধ বয়সেই আপনার সন্তান হবে। আপনি নিরাশ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। ইব্রাহিম (আ.) বললেন- ‘পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে আপন প্রভুর রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে?’ (সুরা হিজর : ৫৩-৫৬)
  •  
  • হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ.)। কিন্তু তার ভাইয়েরা তাকে পছন্দ করতে না পেরে কৌশলে একদিন তাদের বাবার কাছ থেকে নিয়ে ইউসুফ (আ.)-কে কূপে নিক্ষেপ করল। আল্লাহ তাকে সেখান থেকে রক্ষা করেন এবং মিসরের ধনভান্ডারের দায়িত্বশীল বানালেন। অন্যদিকে ইউসুফ (আ.)-এর যে ভাইয়েরা তার সঙ্গে চক্রান্ত করেছিল তারা দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে খাবারের জন্য আসে তারই কাছে। এরপর ইউসুফ (আ.) কৌশলে তার সহোদর ভাই বিনইয়ামিনকে নিজের কাছে রেখে দেন। তখন দুই ছেলেকে (ইউসুফ ও বিনইয়ামিন) হারিয়ে ইয়াকুব (আ.) অন্য ছেলেদের বললেন- ‘হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিত জেনে রাখো, আল্লাহর রহমত থেকে কাফের ছাড়া কেউ নিরাশ হতে পারে না।’ (সুরা ইউসুফ : ৮৭)
  •  
  • এক আল্লাহকে যারা বিশ্বাস করে, যারা মুমিন, যারা সঠিক পথের অনুসারী, তারা তো কিছুতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে না। ওপরে বর্ণিত দুই নবীই ছিলেন পার্থিব বিপদের শিকার। একজন সন্তানহীন অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করেছেন। আরেকজন এক সন্তানের শোকে যখন পাথর হওয়ার অবস্থা, তখন হারালেন আরেক সন্তান। কিন্তু তারা মহান আল্লাহর অসীম রহমত থেকে নিরাশ হননি। হতাশা তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। পরিশেষে তারা উভয়েই পৃথিবীতে আশানুরূপ ফল পেয়েছেন। 
  •  
  • বিপদে পড়লে মানুষ কীভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এর কিছু বর্ণনা পবিত্র কোরআনেও আছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘আমি মানুষকে যখন কোনো নিয়ামত দিই, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও পাশ কাটিয়ে যায়। আর যদি কোনো কষ্ট তাকে স্পর্শ করে তা হলে সে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৮৩)
  •  
  • মানুষ নানা কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়। কখনও সামান্য কারণেই হতাশ হয়ে যায়। কখনও হতাশাগ্রস্তদের সঙ্গে ওঠাবসার কারণে এক সময় সেও হতাশার আক্রমণের শিকার হয়। মানুষের যখন একের পর এক আশাভঙ্গ হতে থাকে, তখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে সে। যেমনিভাবে দুনিয়াবি বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়ে, তেমনিভাবে পরকালের বিষয়েও হতাশ হয়। 
  •  
  • গুনাহের আদিক্যতা মানুষকে পরিপূর্ণ হতাশ করে। তবে যারা আল্লাহর এই সুমহান বাণী লক্ষ করবে তারা কখনও হতাশ হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা জুমার : ৫৩)। তাই হতাশা নয়, মুমিন দুনিয়াবি ও পরকালীন উভয় বিষয়ে আল্লাহর রহমতের আশায় থাকবে। আল্লাহর প্রতি থাকবে পরিপূর্ণ বিশ্বাস। যে বিশ্বাস মুমিনকে হতাশা থেকে মুক্ত করবে।
  •  
  • লেখক : আশিকুজ্জামান নাঈম