• ||
  • Wednesday, October 5th, 2022
  • ||

একজন মুমিনের ডায়েরি যেমন হওয়া উচিত

একজন মুমিনের ডায়েরি যেমন হওয়া উচিত
  • দেখতে দেখতে ফুরিয়ে গেল আরও একটি বছর। শুরু হচ্ছে নতুন বছর। আগত বর্ষে মুমিনের কাজ কেমন হবে, কোন কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উচিত, কিংবা বর্জনীয় কাজই বা কী, ইত্যাদি পরিকল্পনা করে সাজানোই মুমিনের ডায়েরি। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বুদ্ধিমান তো সে, যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কর্ম করে। আর অক্ষম সে, যে প্রবৃত্তির অনুসারী হয় আর আল্লাহর প্রতি অলীক প্রত্যাশা পোষণ করে।’ (তিরমিজি : ২৪৫৯; ইবনে মাজা : ৪২৬০)। তাই আমাদের নতুন বছরের পরিকল্পনায় যেসব বিষয় থাকা চাই-

  • তওবা করা
  • অতীতের গ্লানি ও পাপ থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করা। আগত বছরের সময়গুলো যেন পেছনের পাপের পুনরাবৃত্তি না হয় সে শপথ গ্রহণ করা। একজন মুমিনের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। কর্মব্যস্ততা বা অবসর প্রতিটি মুহূর্তই পরিকল্পনার মাধ্যমে মূল্যবান করা যায়। প্রতিটি অবস্থাই পরকালের পাথেয় আহরণের জন্য জিকির-ইস্তেগফারের মতো আমল রয়েছে। বাসায়, অফিসে, গাড়িতে সব অবস্থায়েই তওবা, ইস্তেগফার, জিকির, তেলাওয়াত ইত্যাদি করা যায়। ঈমান ও বিশ্বাসের নবায়ন হোক নতুন বছরের ডায়েরির পাতায় প্রথম পরিকল্পনা।

  • ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়
  • ইচ্ছে করে, অলসতা করে কিংবা কোনো কারণবশত ছুটে যাওয়া নামাজকে ইসলামের পরিভাষায় ‘উমরি কাজা’ বলে। আরবি ‘উমর’ অর্থ জীবন, আর ‘কাজা’ হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের পরে আদায়কৃত নামাজ। অর্থাৎ জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজগুলো পরবর্তীতে আদায় করে নেওয়াই হচ্ছে উমরি কাজা। পেছনের বছর যে নামাজগুলো কাজা হয়েছে, লিস্ট করে সেগুলোর কাজা আদায় করা এবং আর যেন নামাজ কাজা না হয় সে সংকল্প করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজ আদায় করতে ভুলে যায়, স্মরণ হওয়ামাত্রই যেন সে তা আদায় করে নেয়। এটাই এর একমাত্র ক্ষতিপূরণ।’ (বুখারি : ৫৯৭)

  • আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া
  • আমরা মুসলিম হিসেবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি ঠিকই, কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় সবসময় আউয়াল বা প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করা হয়ে ওঠে না কারও কারও। নতুন বছরের এই পরিকল্পনা করতে পারি- যত কাজই থাকুক এবার থেকে আউয়াল ওয়াক্তে আমি নামাজ পড়বই। সঙ্গে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আওয়াবিন এসব নফল নামাজও নিয়মিত পড়া নতুন বছরের ডায়েরিতে যুক্ত হতে পারে।

  • রোজার প্রতি গুরুত্ব
  • রমজানের রোজা ইসলামের আবশ্যকীয় মৌলিক বিধান। রমজানের ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল রোজারও অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে। রমজানের রোজার প্রতি বছরের শুরু থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখা এবং নফল রোজা পালনের মাধ্যমে অনুশীলন অব্যাহত রাখা। প্রতি সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা নবীজির গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। প্রতি চান্দ্র মাসে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে আইয়ামে বিজের নফল রোজাও রাখা যায়। এ ছাড়া রয়েছে মহররম ও আশুরার রোজা, শাবান মাসের নফল রোজা, শাওয়ালের ছয় রোজা, জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রোজা, বিশেষভাবে আরাফার দিন বা জিলহজ মাসের ৯ তারিখ রোজা পালনকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। আর যদি পেছনে কোনো রোজা কাজা থাকে সেটা অবশ্যই আদায় করে নেওয়া জরুরি।

  • জাকাত-সদকার হিসাব
  • জাকাত ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ। জাকাত সম্পদ পবিত্র করে, বিত্তশালীদের পরিশুদ্ধ করে, দারিদ্র্য মোচন করে, উৎপাদন বৃদ্ধি করে, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে এবং সমাজে শান্তি আনে। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদে বছর অতিবাহিত হলে জাকাত দিতে হয়। একটি বছর পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত ফরজ হলেও বছরের যেকোনো সময় তা আদায় করা যায়। পাশাপাশি নফল দান-সদকাও আগের তুলনায় আরও বাড়িয়ে দেওয়া।

  • কোরআন-হাদিস পাঠ
  • প্রতিদিন অন্তত দশ মিনিট হলেও বুঝে বুঝে কোরআন পড়া। সকালে বা রাতে নির্দিষ্ট সময়ে কিংবা ফরজ নামাজের পর পড়া যেতে পারে। অথবা মোবাইলে কোরআনের অ্যাপস ডাউনলোড করে কাজের ফাঁকে পড়া যেতে পারে। কোরআন পাঠ নিঃসন্দেহে আপনার মনে প্রশান্তি নিয়ে আসবে। চাইলে কিছু চমৎকার তেলাওয়াতও শুনতে পারেন নিয়ম করে। একইভাবে নিয়মিত কিছু হাদিস পড়ার অভ্যাস করা। অন্তত একটি হাদিস হলেও যেন বুঝে পড়া যায়- সেই পরিকল্পনা রাখা নতুন দিনের আগমনে।

  • অন্যায় থেকে দূর থাকা
  • অনেকে নিজের অজান্তে অনেক অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। পরে চাইলেও ভালো পথে থাকতে পারে না। যেমন- কেউ একটা মিথ্যা বলল, এই মিথ্যাটা ঢাকার জন্য তাকে আরও কয়েকটা মিথ্যা বলতে হয়। একটা দুর্নীতি করলে এটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আরও কিছু দুর্নীতি করতে হয়। তাই এসব অন্যায়-অপরাধমূলক কর্ম থেকে বিরত থাকার নতুন পরিকল্পনা করা। যেন নতুন বছরে আমার দ্বারা এমন কিছু না ঘটে।

  • আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া
  • আত্মীয়তার বন্ধন ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু অনেকেই আছে- বছর পার হয়ে গেলেও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কোনো দেখা-সাক্ষাৎ করে না বা খোঁজখবর নেয় না। এমন না করা। সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে কিংবা মাসে আত্মীয়দের খবর নেওয়া। দুর্বল স্বজনদের সহায়তা করা। এমন আরও নানা বিষয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে নতুন বছর শুরুর শুরু লগ্নে।
  •  
  • লেখক : আরিফ খান সাদ